যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশির আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে এবং এই চুক্তির আওতায় আশ্রয়ের আবেদন করে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে। যুক্তরাজ্যে ১১ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশের আবেদন সফল হয়েছে। ফলে ৯৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

এতে বলা হয়, ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হবে। সেখানে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গত বছর প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে, যারা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য ১২ মাসের মধ্যেই আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।

অভিবাসীরা গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, কর্মী বা ভ্রমণ ভিসায় ব্রিটেনে এসে আশ্রয় দাবি করে দেশটিতে প্রবেশের ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশিদের প্রাথমিক আশ্রয় দাবির মাত্র ৫ শতাংশ সফল হয়েছে।

এমন অবস্থায় যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন বাংলাদেশের সাথে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির অধীনে কেবল ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীরাই নয়, বিদেশি নাগরিকদের যারা অপরাধী এবং যেসব ব্যক্তি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের পর বাড়তি সময় অতিবাহিত করেছেন তাদেরও নির্বাসনের কাজ সহজতর হবে।

গত মাসে প্রকাশ্যে আসা অফিসিয়াল ডকুমেন্টস অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড ২১ হাজার ৫২৫ জন ভিসাধারী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ বেশি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে পাকিস্তানিরা। পাকিস্তানের প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ জন নাগরিক দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এরপরই ভারতের ৭ হাজার ৪০০ জন, নাইজেরিয়ার ৬ হাজার ৬০০ জন এবং আফগানিস্তানের রয়েছে ৬ হাজার জন।

অবশ্য যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা এটিই প্রথম নয়। গত বছর যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই এমন ২৬ হাজার লোককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।